হজ্জ গাইডলাইনস (১৪৪৭ হিজরি)
আপনার হজ্জের সফরকে সহজ, সুশৃঙ্খল এবং আধ্যাত্মিক করতে আমাদের দিনভিত্তিক নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্জ করে এবং কোনো অশ্লীল ও পাপের কাজ না করে, সে তার মায়ের পেট থেকে নিষ্কলঙ্ক হয়ে ফিরে যায়।”
— বুখারি ও মুসলিম
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
হজ্জ পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
৫ দিনব্যাপী হজ্জ
📅হজ্জের ক্যালেন্ডার ২০২৬
জিলহজ্জ মাসের ৭ থেকে ১২ — প্রতিদিনের নির্দেশনা
৭ জিলহজ
ইহরাম ও মিনায় যাওয়া
ইহরাম বাঁধা, নিয়্যত করা এবং মিনায় প্রবেশ। সারাদিন তালবিয়াহ পাঠ করুন।
৮ জিলহজ
ইহরাম ও মিনায় যাওয়া এবং মিনায় অবস্থান
ইহরাম বাঁধা, নিয়্যত করা এবং মিনায় প্রবেশ। সারাদিন তালবিয়াহ পাঠ করুন। মিনায় দোয়া ও ইবাদতে কাটান। আরাফাতের প্রস্তুতি নিন।
৯ জিলহজ
আরাফাতের দিন
হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। আরাফাতে অবস্থান করুন। আরাফাতে অবস্থান (ফরজ)।
১০ জিলহজ
পাথর নিক্ষেপ, কুরবানি ও তাওয়াফ
মুযদালিফায় রাত, জামরায় রমি, কুরবানি ও তাওয়াফ।
১১ জিলহজ
মিনায় রমি
তিন জামরায় পাথর ছোঁড়া। প্রতিদিন সূর্য ঢলার পর তিন জামারাতে (ছোট, মেজো ও বড়) ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা।।
১২ জিলহজ
শেষ রমি ও মিনা ত্যাগ
শেষবার জামরায় রমি করুন। তাওয়াফুল বিদা করুন।
১৩ই জিলহজ্জ (ঐচ্ছিক)
যারা বিশেষ কারণে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে পারবেন না
১৩ই জিলহজ্জ মিনায় অবস্থান করে পুনরায় তিন জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করে মিনা ত্যাগ করতে হবে।
৯টি মোট কাজ
হজ্জের ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো
৯ মোট কাজহজ্জের মূল কার্যক্রম মোট ৯টি কাজের ওপর নির্ভরশীল। এর গঠন বোঝার একটি সহজ্জগাণিতিক সূত্র রয়েছে
গাণিতিক সূত্র:(৩ * ২ = ৬) অর্থাৎ, হজ্জের ফরজ কাজ ৩টি এবং ফরজের ঠিক দ্বিগুণ হলো ওয়াজিব কাজ (৬টি)।
হজ্জের পূর্ণতা = ফরজ কাজ (৩টি) + ওয়াজিব কাজ (৬টি)
বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন: হজ্জের ৩টি ফরজ কাজের কোনো একটি বাদ পড়লে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে 'দম' বা কাফফারা দেওয়ার বিধান থাকলেও হজ্জের পূর্ণতার জন্য প্রতিটি কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা আবশ্যক। হজ্জের ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং প্রতিটি কাজের গুরুত্ব বুঝতে আমাদের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।-
হজ্জের ফরজ কাজ
হজ্জের মূল স্তম্ভ এবং অপরিহার্য কাজগুলো যা প্রতিটি হাজীকে পালন করতে হবে।
হজ্জের ৩টি ফরজ কাজ
• এহরামের নিয়ত করা: এটি হজ্জের প্রথম ও প্রধান ধাপ।
• আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা: ৯ই জিলহজ্জ এই ময়দানে অবস্থান করা হজ্জের মূল স্তম্ভ।
• তাওয়াফে ইফাজা করা: ১০ই জিলহজ্জ থেকে ১২ই জিলহজ্জের মধ্যে ক্বাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করা।
হজ্জের ৬টি ওয়াজিব কাজ
ফরজ না হলেও ওয়াজিব কাজগুলো পালন করলে হজ্জসম্পূর্ণ হয় এবং সওয়াব বৃদ্ধি পায়।
১. মুজদালিফায় (মাশআরুল হারাম) অবস্থান করা: ১০ই জিলহজ্জ মুজদালিফায় ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান (ওয়াজিব)।
২. জামারাতে (শয়তানকে) পাথর নিক্ষেপ করা: ১০ই জিলহজ্জ মিনায় ফিরে জামারায়ে কুবরায় (বড় শয়তানকে) ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা। ১১ই জিলহজ্জ: ২১টি (তিন শয়তানকে)o ১২ই জিলহজ্জ: ২১টি (তিন শয়তানকে) মোট: ৪৯টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে।(যারা ১২ তারিখ মিনা ত্যাগ করবেন)। যদি ১৩ই জিলহজ্জ অবস্থান করেন, তবে আরও ২১টি পাথরসহ মোট ৭০টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে।
৩. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা: ১০ই জিলহজ্জ পাথর নিক্ষেপের পর নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানি করা।
৪. মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা (হলক): ১০ই জিলহজ্জ কুরবানির পর মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা। এর মাধ্যমে এহরামের বিধিনিষেধ শিথিল হয়।
৫. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা: ১০ই জিলহজ্জ সাফা-মারওয়ায় ওয়াজিব সাঈ সম্পন্ন করা।
৬. বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে বিদা) সম্পন্ন করা:এটি হজ্জের সর্বশেষ ওয়াজিব কাজ। মক্কা থেকে নিজ দেশে বা অন্য গন্তব্যে ফেরার আগে এই তাওয়াফ সম্পন্ন করতে হয়।
৬ মূল স্থান
হজ্জের ভৌগোলিক অবস্থান ও দূরত্ব নির্দেশিকা
ক্বাবা শরীফকে কেন্দ্রবিন্দু ধরে প্রধান ৬টি স্থানের আনুমানিক দূরত্ব ও দিক
| স্থানের নাম | ক্বাবা থেকে আনুমানিক দূরত্ব | অবস্থান ও দিক |
|---|---|---|
| সাফা পাহাড় | ১০০ মিটার | ক্বাবা শরীফের পাশেই |
| মারওয়া পাহাড় | ৫৫০ মিটার (সাফা থেকে প্রায় ৪৫০ মি.) | ক্বাবার পাশেই |
| জামারাত | ৫ কিঃমিঃ (প্রায়) | পূর্ব‑দক্ষিণ দিক |
| মিনা | ৯ কিঃমিঃ (প্রায়) | পূর্ব‑দক্ষিণ দিক |
| মুজদালিফা | ১১ কিঃমিঃ (প্রায়) | ক্বাবা ও আরাফাতের মাঝে |
| আরাফাত (জাবালে রহমত) | ২০ কিঃমিঃ (প্রায়) | পূর্ব‑দক্ষিণ দিক |
সংক্ষেপে হজ্জের দিনগুলো
নিয়্যত করা এবং ইহরাম বাঁধা। ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা।
মিনায় অবস্থান এবং মিনায় অবস্থান এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (মূল হজ)।
মুযদালিফায় রাত, জামরায় রমি, কুরবানি ও তাওয়াফ।